চিঠি অতঃপর

সকল কবিতা By 5 months ago No Comments
5
(1)

কাউকেই বিমুখ হতে হবে না; চলতে হবে না অনিশ্চিত কোনো পথ,
এখন থেকে সব দায় আমার, আমরা ভালো থাকবো।

গত মাসে প্রফিডেন্ট ফান্ডের টাকা-টা পেয়েছি;
বহু চিন্তা-ভাবনা করে পেনশন বেচে দিলাম ।
যতোটুকু দায় আমার প্রতি মনিবের ছিল সবটুকু চুকিয়ে দিয়েছি।
ব্যাস! তারাও এখন দায়মুক্ত ।

চাকরিটায় ইস্তফা দেয়ার পর বুঝলাম, অনেকটা সময়
চলে গেছে পরপারে ।
চলে গেছে সোনালি যৌবন। পৌঢ়ত্বের দ্বারে দাঁড়িয়ে
এখন আমার নিজেকে চিনতেই কষ্ট হচ্ছে।
এটা কি আমি নাকি কোনো অচেনা কঙ্কাল!

প্রায়শঃই ওরা বলে ওতো এখন তখন; এখন থেকে না বুঝলে পরে কখন কীভাবে…

আমার সন্তান সে কথা বোঝে, কেবল আমিই নাকি বুঝতে পারছি না !
হরেক রকম স্বপ্ন আছে, সকলেরই নাকি থাকে!
অনেক বড় রিভলভিং চেয়ারে তাকে যখন দুলতে দেখবো, যখন
অনেক দামি পাজেরো আমার পাঁজরের উপর দিয়ে ড্রাইভ করে
উড়িয়ে নিয়ে যাবে শাদা পোশাকের ড্রাইভার, তখন নাকি
আমারই সুখ,
আমার-ই স্বপ্ন পূরণ-
ওরা সব বোঝে, কেবল আমিই বুঝি না কিছু!

আমার ছিল শক্ত চেয়ার, টাইপ মেশিন, দেয়াল ঘড়ি-
ওরাও তো এখন আর আমার নয়।

আরো পড়ুন: হিসাব মেলেনি

বিজ্ঞাপন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

Author

তন্ময় সাহা(১৯৮৩)–জন্ম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত কুষ্টিয়া জেলায়, কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা, শৈশব কেটেছে, কৈশোরেও তার কুষ্টিয়া আর গড়াই নদীর মাখামাখি। তারপর লেখাপড়া ও কর্মসূত্রে বহুদিন ধরে খুলনায় বসবাস। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি এন্ড জিনেটিক ইন্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক, বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ এমবিএ (এইচ আর এম) সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘দি ফ্লেচার স্কুল অফ ল’ এন্ড ডিপ্লোম্যাসি; টাফ্ট ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ডিজিটাল ফিন্যান্স প্যাকটিশনার হিসাবে সনদপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি উপপরিচালক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনায় কর্মরত আছেন। লেখালিখি চলেছে বিক্ষিপ্তভাবে, শখে, আদিষ্ট বা অনুরুদ্ধ হলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যুক্ত ছিলেন নাট্যদল ‘থিয়েটার নিপূণ’ এবং বিজ্ঞান পত্রিকা ‘বায়োটকের’ সাথে। বই, বাংলা সাহিত্য হলো তার ভালোবাসা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া প্রতিযোগীতায় স্কুল পর্যায়ে পাওয়া সার্টিফিকেট আর উপহারে পাওয়া বইগুলোকে আজও অতি যত্নে রেখেছেন, নিজস্ব বুকসেলফে। মুলতঃ কবিতা লেখার শখ, টুকটাক গদ্য লেখারও চেষ্টা চলে। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতাগুলি সহ সোস্যালমিডিয়া, টুকরো কাগজ আর ডাইরিগুলোর পাতা থেকে অদুর অতীতে লেখা নিজের পছন্দের বেশ কিছু কবিতা মলাটবন্দী করে, আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন হোরাসের চোখ, বিবিধ ঘোড়সওয়ার ও কালো মেম কাব্যগ্রন্থে।

No Comments

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!