জননী ভিক্ষাং দেহি

সকল কবিতা By 3 weeks ago No Comments
5
(1)

শিষ্যমন্ডলীর মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ, সিদ্ধিলাভ করেছেন
চিন্তায়, উপবাসে, আত্মনিগ্রহে,
দমন করতে শিখেছেন
কাম-ক্রোধ-লোভ-মোহ-মদ ও মাৎসর্য,
নিপুণ যিনি যম, নিয়ম, প্রাণায়ামে,
অভুতপূর্ব সাফল্য যার শব সাধনায়, সম্মোহনে,
যার প্রতিনিয়ত চেষ্টায় সাধনায় সন্তুষ্ট তিঁনিও-
এবারে আপনাদের জল, বাতাস, অগ্নি, মাটি,
আকাশ ও শূন্যতার সিদ্ধির সাধনায়
আত্মনিয়োগে উপদেশ দেবেন সেই পুণ্যাত্মা।
কিন্তু তারও আগে লোকালয়ে যাজন সম্পন্ন করে,
ভিক্ষা করে, উপদেশ দিয়ে,
সাধনে নিযুক্ত হবার নিমন্ত্রণ করে এইবার
সন্ন্যাসীর মহান কর্তব্য পালন করুন।

পিতৃগৃহের ঝলমলে পোশাক, বিলাসী জীবন ছেড়ে:
কৌপীনে, সেলাইবিহীন গেরুয়া পোশাকে,
বেছে নেয়া সুদীর্ঘ প্রবাস জীবনে
যতক্ষণ অনুভূতি মরে না যায় ততক্ষণ,
হিমালয় চূড়ায় দাঁড়িয়ে,
যতক্ষণ ব্যথা,
ব্যথার অনুভূতি, মরে না যায় ততক্ষণ
কণ্ঠে ঢালুন মন্ত্রের অমৃত।
নিশ্চয় একদিন আপনারাও মহান তপস্বী হবেন।

একটি মাত্র লক্ষ্য: মোক্ষ।
তৃষ্ণা, আকাঙ্ক্ষা,স্বপ্ন, আনন্দ-বেদনায় মুক্তি।
দূষিত কামনাকে মরে যেতে দেওয়া।

নিরাসক্ত হৃদয়ে শান্তি, বিশুদ্ধ চিন্তার আস্বাদ পেতে ।
আনন্দে, সৌন্দর্যে, মায়ায়- জগৎ ছেড়ে
কখনো কি সকল বিক্ষোভ, আকাঙ্ক্ষা  শান্ত হয়ে
অন্তঃসত্ত্বা আত্মা জেগে উঠবে না পূর্ণ পরিতৃপ্তি নিয়ে?

একটু কি গোছানো গেছে ঘর?
কতটা পৌঁছানো গেছে লক্ষ্যের নিকট?
কতখানি শেখা হলো সাধনায়?
হয়তো যা কিছু শেখা গেল
আরো সহজে, আরো দ্রুত শেখা যেত,
কোনো পান্থশালায়
মুটে মজুর, সাধারণ মানুষের কাছে!
কেবলই পাপ ও বেদনা হতে
ক্ষণস্থায়ী এসকল উপশম মাত্র!

পন্ডিত, কঠোর শ্রমণ, সন্ন্যাসী সাধু, জিজ্ঞাসু,
একাগ্রচিত্তে যারা সাধনা করেছেন অন্তর দেবের,
আপনারা, কৃপা করে একবার বলুন,
‘কোথায় কীভাবে পাব সত্যের সন্ধান?’
পবিত্র সাধনগ্রন্থে’, মন্ত্রে দিনের-পর-দিন
উত্তর খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত সন্তান। এইবার, এইবার-
জননীগো, জননী ভিক্ষাং দেহি, জননী ভিক্ষাং দেহি.

এছাড়াও দেখুন: মোটামুটি ধরনের ভ্রমণের প্লান

আরো জানুন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

Author

তন্ময় সাহা(১৯৮৩)–জন্ম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত কুষ্টিয়া জেলায়, কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা, শৈশব কেটেছে, কৈশোরেও তার কুষ্টিয়া আর গড়াই নদীর মাখামাখি। তারপর লেখাপড়া ও কর্মসূত্রে বহুদিন ধরে খুলনায় বসবাস। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি এন্ড জিনেটিক ইন্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক, বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ এমবিএ (এইচ আর এম) সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘দি ফ্লেচার স্কুল অফ ল’ এন্ড ডিপ্লোম্যাসি; টাফ্ট ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ডিজিটাল ফিন্যান্স প্যাকটিশনার হিসাবে সনদপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি উপপরিচালক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনায় কর্মরত আছেন। লেখালিখি চলেছে বিক্ষিপ্তভাবে, শখে, আদিষ্ট বা অনুরুদ্ধ হলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যুক্ত ছিলেন নাট্যদল ‘থিয়েটার নিপূণ’ এবং বিজ্ঞান পত্রিকা ‘বায়োটকের’ সাথে। বই, বাংলা সাহিত্য হলো তার ভালোবাসা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া প্রতিযোগীতায় স্কুল পর্যায়ে পাওয়া সার্টিফিকেট আর উপহারে পাওয়া বইগুলোকে আজও অতি যত্নে রেখেছেন, নিজস্ব বুকসেলফে। মুলতঃ কবিতা লেখার শখ, টুকটাক গদ্য লেখারও চেষ্টা চলে। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতাগুলি সহ সোস্যালমিডিয়া, টুকরো কাগজ আর ডাইরিগুলোর পাতা থেকে অদুর অতীতে লেখা নিজের পছন্দের বেশ কিছু কবিতা মলাটবন্দী করে, আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন হোরাসের চোখ, বিবিধ ঘোড়সওয়ার ও কালো মেম কাব্যগ্রন্থে।

No Comments

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!