বে-আদব ছেলেটা কিছু হতে পারেনি!

সকল কবিতা By 6 months ago No Comments
0
(0)

“বে-আদব ছেলেটা কিচ্ছু হতে পারেনি।”
অনেকেই বলেছেন, “তুমি সন্তান হতে পারোনি।
ভালো প্রেমিক হতে পারোনি।
ভালো সহোদর নও,
ভালো স্বামী নও,
পিতা নও,
ভালো বন্ধু, ভালো ভৃত্য, ছুতোর, মেথর,
কিচ্ছু হতে পারোনি তুমি, স্রেফ কিচ্ছু নও!”

বলেছেন আমি কী কী নই।
কেউ’ই বলেননি
আমি কার কার ঠিক ঠিক কী কী হই।

আমার জন্য কোনো সম্ভাষণ নেই,
কোনরূপ কৃতজ্ঞতা স্বীকার,
কোনো উৎসর্গ পত্র নেই, আমার জন্য।
কেবল একবাক্যে উপসংহারে
কৃপা করে কেউ কেউ
বলেছেন, “বে-আদব ছেলেটা কিচ্ছু হতে পারেনি।”

আসুন যারা এখনো বলতে বাকি আছেন,
তারাও বলুন,
আসুন,
যারা এখনো বাকি আছেন উগরে দিতে রাজ্যের ঘৃণা,
যারা এখনো বাকি আছেন শাস্তি দিতে, আসুন।
আপনারা সকলেই আমন্ত্রিত, আজকের সুবর্ণ ডায়াসে।

মহানুভব,
আপনারা বলতেই পারতেন,
ছেলেটা হিমালয় হতে জানে,
কতোটা আঘাত সয়েও, কই ভাঙলো নাতো!
আপনারা এটুকতো বলতেই পারতেন,
এতোখানি আঘাত সয়েও আমৃত্যু যুদ্ধ করে গেলো,
ছেলেটা সত্যিকারের অভিমন্যু ছিলো।
আপনারা অন্তত এটুকও তো বলতে পারতেন,
ছেলেটা ভালোবাসার কাঙাল ছিলো,
জীবনে কখনো নাগাল পেলো না ভালোবাসার।

আপনারা কিছুই বললেন না।
আপনারা কখনোই এমন কিছু বলেন না।

মহানুভবেরা,
এখন, এই আত্মজিজ্ঞাসার ডায়াসে দাঁড়িয়ে
অন্তত এটুকতো বলুন, করজোড়েু
কতো কতো বার আপনাদের প্রণাম করেছিলাম …
এইতো দু’দিন আগে আমার বিশ্বস্ত দু’হাত বাড়িয়ে
আপনাদের সুস্বাস্থ্য পান করেছিলাম…
দয়া করে মনে করুন মহানুভবেরা।

অথচ আমি জানি এক একটি কবিতা এক একটি
প্রসব বেদনার মতো।
এ সকল আপনাদের কেমন প্রসব!

আরও পড়ুন – >>> প্রেম!

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

Author

তন্ময় সাহা(১৯৮৩)–জন্ম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত কুষ্টিয়া জেলায়, কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা, শৈশব কেটেছে, কৈশোরেও তার কুষ্টিয়া আর গড়াই নদীর মাখামাখি। তারপর লেখাপড়া ও কর্মসূত্রে বহুদিন ধরে খুলনায় বসবাস। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি এন্ড জিনেটিক ইন্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক, বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ এমবিএ (এইচ আর এম) সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘দি ফ্লেচার স্কুল অফ ল’ এন্ড ডিপ্লোম্যাসি; টাফ্ট ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ডিজিটাল ফিন্যান্স প্যাকটিশনার হিসাবে সনদপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি উপপরিচালক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনায় কর্মরত আছেন। লেখালিখি চলেছে বিক্ষিপ্তভাবে, শখে, আদিষ্ট বা অনুরুদ্ধ হলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যুক্ত ছিলেন নাট্যদল ‘থিয়েটার নিপূণ’ এবং বিজ্ঞান পত্রিকা ‘বায়োটকের’ সাথে। বই, বাংলা সাহিত্য হলো তার ভালোবাসা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া প্রতিযোগীতায় স্কুল পর্যায়ে পাওয়া সার্টিফিকেট আর উপহারে পাওয়া বইগুলোকে আজও অতি যত্নে রেখেছেন, নিজস্ব বুকসেলফে। মুলতঃ কবিতা লেখার শখ, টুকটাক গদ্য লেখারও চেষ্টা চলে। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতাগুলি সহ সোস্যালমিডিয়া, টুকরো কাগজ আর ডাইরিগুলোর পাতা থেকে অদুর অতীতে লেখা নিজের পছন্দের বেশ কিছু কবিতা মলাটবন্দী করে, আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন হোরাসের চোখ, বিবিধ ঘোড়সওয়ার ও কালো মেম কাব্যগ্রন্থে।

No Comments

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!