স্বর্ণালি ও সময়ের গল্প

সকল কবিতা By 1 month ago 1 Comment
5
(2)

স্বর্ণালির বয়স চল্লিশ ছুঁইছুঁই।
ত্রিশ বা পঁচিশ, নিজেকে কখনো কখনো
আঠারোর তন্বী তরুণী ভাবতেও বেশ লাগে ওর।
ছিপছিপে কটি, আপেল রঙের মেয়েটার মতো পূর্ণ যুবতী সে
(ঠিক যেমন প্রিয় জহির রায়হান ছোটগল্পে রুনাকে এঁকেছিলেন)।
বয়সের চাপ কমে বাড়ে। কখনো উচ্চচাপ কখনো নিম্নচাপ হয়।
স্বর্ণালি, কখনো কল্পনায় আকাশ ছোঁয় তো কখনো পাতাল।
ওতে আনন্দ-বিষাদ, রোদ কি বৃষ্টি বিশেষ কিছুই যে নেই,
তা তাকে বহুবার বহুজন বলেছেন।
তবু সে ভেবে চলে, ‘ত্রিশ, বিশ, আঠারো…’।

ভ্রু-পেইন্ট, আই-লাইনার, বাহারি লিপিস্টিক,
ফেস-পাউডার, মাশকারা, হোয়াইটেনার,
বেসন, হলুদ আর একটু মসুর ডাল
এই তার রূপের সম্বল।
অনেকেই বলেছেন ভেষজের গুণাগুণ নাকি কেমিক্যাল থেকেও
অনেক অনেক বেশি। তার উপর, ওর অমন টোলপড়া গালের,
কোঁকড়া চুলের প্রশংসা-কেনোইবা ওকে ভাসাবে না বলুন!
ইদানীং কেন জানি না
অনেকেই মুখ ফুটে প্রশংসাটা করছেন না।

প্রায়শই মন তার খারাপ খারাপ হয়।
খোলা আকাশের নিচে না হোক, বদ্ধ ঘরেই না হয়
আউড়ে কবিতার কটা লাইন স্বর্ণালি, নাটোরের বনলতা হবে।
বলো দেখি বিউটিফুল, কখন তুমি সবচেয়ে বেশি সুন্দরী ছিলে?
আঠারো নাকি পঁচিশে?
ড্রেসিং-টেবিলটার আয়নায় চামড়ার বলিরেখা দেখে,

কপালের ভাঁজ দেখতে দেখতে এমনকি একান্ত আড়ালে
সন্তান জন্মের দাগ দেখে-এ প্রশ্নের
উত্তর দিতে পারা সত্যি কঠিন। বড্ড বেশি শক্ত!

‘আঠারোতে প্রিয় মানুষটার সাথে দেখা হয়নি,
পঁচিশে ছিল না ফুটফুটে দেবশিশুরা।’
হঠাৎ, এরকম ভাবা মাত্রই আত্মার আমোদে স্বর্ণালি
এতদিনে যেন ঠিকঠাক সৌন্দর্যের নাগাল পেয়ে গেলো!
এই এতক্ষণে জানতে পেরেছে সে,
‘এত কিছু আছে যার ড্রেসিংটেবিলটা তার না হলেও চলেবে।’

এছাড়াও দেখুন: প্রজাপতি জন্ম

বিজ্ঞাপন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 2

No votes so far! Be the first to rate this post.

Author

তন্ময় সাহা(১৯৮৩)–জন্ম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত কুষ্টিয়া জেলায়, কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা, শৈশব কেটেছে, কৈশোরেও তার কুষ্টিয়া আর গড়াই নদীর মাখামাখি। তারপর লেখাপড়া ও কর্মসূত্রে বহুদিন ধরে খুলনায় বসবাস। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি এন্ড জিনেটিক ইন্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক, বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ এমবিএ (এইচ আর এম) সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘দি ফ্লেচার স্কুল অফ ল’ এন্ড ডিপ্লোম্যাসি; টাফ্ট ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ডিজিটাল ফিন্যান্স প্যাকটিশনার হিসাবে সনদপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি উপপরিচালক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনায় কর্মরত আছেন। লেখালিখি চলেছে বিক্ষিপ্তভাবে, শখে, আদিষ্ট বা অনুরুদ্ধ হলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যুক্ত ছিলেন নাট্যদল ‘থিয়েটার নিপূণ’ এবং বিজ্ঞান পত্রিকা ‘বায়োটকের’ সাথে। বই, বাংলা সাহিত্য হলো তার ভালোবাসা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া প্রতিযোগীতায় স্কুল পর্যায়ে পাওয়া সার্টিফিকেট আর উপহারে পাওয়া বইগুলোকে আজও অতি যত্নে রেখেছেন, নিজস্ব বুকসেলফে। মুলতঃ কবিতা লেখার শখ, টুকটাক গদ্য লেখারও চেষ্টা চলে। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতাগুলি সহ সোস্যালমিডিয়া, টুকরো কাগজ আর ডাইরিগুলোর পাতা থেকে অদুর অতীতে লেখা নিজের পছন্দের বেশ কিছু কবিতা মলাটবন্দী করে, আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন হোরাসের চোখ, বিবিধ ঘোড়সওয়ার ও কালো মেম কাব্যগ্রন্থে।

1 Comment

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!