নেমন্তন্ন

সকল কবিতা By Jun 03, 2022
5
(2)

জমিদার কত্তার পুতের বে’, নেমন্তন্ন গো দাদা, নেমন্তন্ন।
প্রেজারা মেলা খুশী, বে’ বলে কতা।
আমি কি আর না যায়ে পারি গো দাদা, না যায়ে পারি ?
কত্তার পুত; ছোট কত্তা বলে কতা।
হাটের মইধ্যে ঢেড়া পিটায়ে নেমন্তন্ন,
কি তার বাহার। কি তার চটক, বাবা গো বাবা!
আমি কি আর না যায়ে পারি!
বাপের সাথে পুতেরও তো যাওয়া লাগে, নাকি, কও?
পেন্নাম অন্নদাতা? ছাওয়াল আমার মনিব চেনবে না,
কি করে হয়, কি-ই করে হয়? কও?

ভোরের নদী গো; বাপে পুতে চুবানি দিয়ে; বাবুর বাড়ির
ফাই-ফরমাস খাইটে, ঘাইমে-নায়ে-চুবায়ে সবে উঠিছি,
খাজেনদারের হাঁক,
-যা পাতা কাইটে নিয়ে আয়। বাইরে আমগাছের পাশে
গাদা মাইরে বইসে পর।
পাতা কাইটে ফিরে যখন সবে বসিছি মনে প’লো;
পাতা ধুলাম না তো, কি ভুলো মন রে বাবা!
-দাদাগো এট্টু জল দিবা, পাতা ধুতাম?
-দেখোনা, বাবু আবার পাতা ধোয়! যা যা, নদীর জলে
চুবায়ে নিয়ে আয়, নয় তো মুছে নে, ডলা দে পাছায়।
ছাওয়াল আমার দৌড়োয় ভালো, এক্কেবারে হরিণের মতো,
বাপেরে কি ময়লা পাতায় খাতি; দেয়!

ভাত আর ডাল দিয়ে ভাইসে গেলো পাতা, মাছের ঝোলে
ভাংগা মাছের গন্ধও পালাম,
– বাবা, মিষ্টি দিবি নে?
– দিলি তো আগেই দিতো রে, বাপ!
নিজ চোক্ষে দেখলাম ছানার রসা, পটল ভাজা,
কচি পাঁঠা গড়াগড়ি খাচ্ছে ঝোলে অম্বলে!
-কত্তা কিন্তু খুব রাগী, হ্যাঁ। ফেলবিনে যেখানে সেখানে,
পাতা তুলে নিয়ে ভাগাড়ে যা।

কত্তাগের নাকি, ভূমি দান করতি হয়; নিয়ম! দানের ভূমির
আগাছা ময়লা ছাফ; আমাগেরই করতি হয়, সেডাও নিয়ম।
ছোট কর্তার বে’; মনিব বলে কতা, মনিব বলে কতা।
অখ্যাতি তো আর হতি দেয়া যায় না।

-বাপ, এই খাতি; আলাম!
-চুপ! চুপ! ও কতা কতি নেই বাপ।
না আলি; হবি? মাতা গুনতি যে! চামড়ার ঢোল;
ঢাকের কাঠি ছাড়াই; কত্তারা, বাজায় রে বাপ।

পাতা হাতে বাপে-পুতে ভাগাড়ে চললাম,
ছোট কত্তার ছেলে হলি পরে;
আমার ব্যাটার; মনিব হবি যে, ভাবতিই ভালো লাগে,
সুখ সুখ লাগে গো দাদা, সুখ সুখ লাগে।

Read More – >>> শামুকের ছায়া

সম্পর্কে পড়ুন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 2

No votes so far! Be the first to rate this post.

Author

তন্ময় সাহা(১৯৮৩)–জন্ম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত কুষ্টিয়া জেলায়, কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা, শৈশব কেটেছে, কৈশোরেও তার কুষ্টিয়া আর গড়াই নদীর মাখামাখি। তারপর লেখাপড়া ও কর্মসূত্রে বহুদিন ধরে খুলনায় বসবাস। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি এন্ড জিনেটিক ইন্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক, বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ এমবিএ (এইচ আর এম) সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘দি ফ্লেচার স্কুল অফ ল’ এন্ড ডিপ্লোম্যাসি; টাফ্ট ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ডিজিটাল ফিন্যান্স প্যাকটিশনার হিসাবে সনদপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি উপপরিচালক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনায় কর্মরত আছেন। লেখালিখি চলেছে বিক্ষিপ্তভাবে, শখে, আদিষ্ট বা অনুরুদ্ধ হলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যুক্ত ছিলেন নাট্যদল ‘থিয়েটার নিপূণ’ এবং বিজ্ঞান পত্রিকা ‘বায়োটকের’ সাথে। বই, বাংলা সাহিত্য হলো তার ভালোবাসা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া প্রতিযোগীতায় স্কুল পর্যায়ে পাওয়া সার্টিফিকেট আর উপহারে পাওয়া বইগুলোকে আজও অতি যত্নে রেখেছেন, নিজস্ব বুকসেলফে। মুলতঃ কবিতা লেখার শখ, টুকটাক গদ্য লেখারও চেষ্টা চলে। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতাগুলি সহ সোস্যালমিডিয়া, টুকরো কাগজ আর ডাইরিগুলোর পাতা থেকে অদুর অতীতে লেখা নিজের পছন্দের বেশ কিছু কবিতা মলাটবন্দী করে, আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন হোরাসের চোখ, বিবিধ ঘোড়সওয়ার ও কালো মেম কাব্যগ্রন্থে।

error: Content is protected !!