নিম তিতা

তোমাকে রেখেছে ভালো কেউ একজন। আমিও চেয়েছি ঘর। তুমিও কারো না কারো-র সাথে ঘর-ই বেঁধেছ। আমার না হওয়া ঘরে তুমি যার অকারণ স্বেচ্ছাচারী, আজ তার স্বাধীনতা হরণের দায়! এছাড়াও দেখুন: তুমি বিজ্ঞাপন

তুমি

চোখে তার লেপে দেয়া স্বর্ণ কাজল। শেকলের বেড় তার ছায়া; নিষ্পাপ হৃদয়ের ছোঁয়া হিম হিম অনুভবে চুপচাপ বাঁধে। যার লাল পদ্ম ঠোঁটে, অমানিশা চুলে: ছন্দ খেলে, ফেলে এসে পৃথিবীতে অতি প্রিয় ‘শব’ কীভাবে সে ‘প্রিয়া’ হতে পারে! বিছানো শিমুল ছুঁয়ে হাতের নাগালে রাশি রাশি বিকেলের আলো ঠিকরে ছড়িয়ে গেছে হৃদয়ের কোণে; তন্ত্রীতে তান যেন স্বর্গের খেয়া। এমন হৃদয় যার, তার…

ডাক পাঠালাম আগে

এখনো কি সকালের রোদ পৌঁছেনি তোমার ঘরে খাকি রঙা জামা গায়ে ডাকপিয়নের মতো? ঘুম ভাঙা আদুরে ডাকেও বিছানা কি ছাড়োনি এখনো? কাঁধ ছোঁয় সকালের পূবালি বাতাস। পূবের জানালাগুলো খোলনি কখনো? জেনো, ‘ভাবনারা খেলা করে এলোমেলো, অকারণ দুষ্টুও হয়।’ অস্বচ্ছ কুয়াশার মাঝে অতটুকু আলো, তাই দিয়ে আঁকা হয় ছড়ানো আঁচল। এতক্ষণে, সকালের প্রেমে তুমিও কি হয়েছো কয়েদি? মুখোমুখি মুখ ভাসে চোখে।…

বৈরিতায়

‘তোমাকে না পাওয়া’ ক্ষত আমৃত্যু সরব। চোখ বুঁজে তোমাকে খোঁজার অভ্যাস গেলো না। ভালোবাসা নাকি ভাসে? স্বপ্নের মতো! ভালোবাসা নাকি বুকের কাপড়? আগলে আমি রাখি; আলোর খোঁজে আত্মারা চোখ মেলে- বোঁজে চোখ চৈতালী-দুপুরের ভীষণ বৈরিতায়। কতদিন চশমাটা খুলে চোখ দেখা হয়নি আমার! একান্ত আপন ওড়নার গন্ধ পাইনি কতদিন… এছাড়াও দেখুন: ডাক পাঠালাম আগে বিজ্ঞাপন

খোলা চিঠি

কার দুয়ারে যে দাঁড়ায়ে বন্ধু ভিখ মাগি বারবার! ভিক্ষার তাপে ভিক্ষার ঝুলি পুড়ে আজ অঙ্গার! তার সাথে কি ভর জনমের আড়ি? শব্দের ঋণ শোধ কি হবে না মোটে? বন্ধ দমের আড্ডাখানায় আত্মজ হাঁসফাঁস… ভিক্ষা আমার না নেওয়া প্রশ্বাস! এছাড়াও দেখুন: অস্তাচলের ছোঁয়া বিজ্ঞাপন

অস্তাচলের ছোঁয়া

চলে গেছে সবাই- সব্বাই! তুই কেন আর বসে? তুইও যা না! দেখ, আমায় যদি ছুঁয়েও দিস পুণ্য হবে না। গা আমার উল্টো ডুমুর পাতা: বড্ড বেশি রুঢ়, বড্ড খসখসে। পেলবতায় ছাই দিয়ে তুই সাধবি কি নীলকণ্ঠ? ছিঁড়লে পাবি কষ, ছিঁড়লে পাবি আঁঠা! থাকবি তবু? থাকবি? মাখবি গায়ে অস্তাচলের ছোঁয়া? তোর বুকে নাহ্ বড্ড বেশি মায়া! বুকের ওমে লুকোয় যে জন,…

ভালোবাসি না

আর কখনো হঠাৎ করে আসবি না তুই দুপুর রোদের তাপে। জানিস না বুক কাঁপে ভালোবাসার অনভ্যাসে? আবার যদি দেখা হবার সম্ভাবনাও থাকে, পাশ কাটিয়ে যাস। জানিস না রং লাগাই না আর বিবর্ণ ক্যানভাসে। আর কখনও জানতে চেয়ে করিস না ভুল ভালোবাসি কিনা। পড়ছে মনে তোর শপথেই সত্য বলা মানা। ভালো যাকে বাসি, সে তুই না! মোটেও ভালোবাসি না তোকে! একদম…

সকলেই চন্দ্রাহত যখন

হয় ভিক্ষা নতুবা প্রেমের আকালে একটি পূর্ণচন্দ্র রুটির অপেক্ষায় চেয়ে আছি- চেয়ে আছি পথ একমনে কত শত কোটি কল্পকাল! সাদা রুটি পোড়া পোড়া কালো কালো ছোপ কেউ তাকে কলঙ্ক বলে, কেউ কেউ বলে গিরিখাত। বলেছিল কবিকাল কপালের ছ্যাদা; কালে কালে কালো হয়ে রেখে গেছে কালসিটে দাগ। বাকিটুকু মুগ্ধতা, অন্ধের আলো হাতড়ানো, বিবাগী স্বভাব! নষ্টচন্দ্রের রাতে রূপ দেখে অথবা বিস্ময়ে শীতল…

সুগন্ধী আবেশ বুকে

ছিল মলাটের মাঝে; আমাদের কবিতাগুলি আজ নদী হলো উচ্ছ্বল স্রোতের ছোঁয়ায়। কবি যতই আবৃত্তি করছিলেন, আমি ততই নত হচ্ছিলাম কৃতজ্ঞতায়। অন্যরকম ভালোবাসায় সিক্ত হতে হতে, মনে হলো, আমি তার অতি প্রিয় একজন যেন। আজ আমি অকারণ স্ফীত নই, যৌক্তিক আবেগে গর্বিত। এখনো পৃথিবীর বুকে মানুষেরা থাকেন; মানুষেরা মানুষ ভালোবাসেন। সে সময় সুগন্ধী আবেশ বুকে, কেবলই আনন্দে নয় ভেসেছি বাঁধভাঙা সুখে…

সদুত্তর

বেশতো, না হয় যাব আজ বিকেলে তোমার সাথে হাঁটতে; বসব না হয় দীর্ঘ সময় অতীত নিয়ে ঘাঁটতে! ঝগড়া না হয় আমরা দুজন নতুন করেই করব। লাভ কি তখন, জানছি যখন ফিরতি ট্রেনেই ফিরব দু’জন একা! মুখ দেখিয়ে মুখোমুখি মুখোশ খোলে নাকি! ছাদনাতলার চিঠিই আসল; প্রেম নিবেদন শুভংকরের ফাঁকি! তবুও আমি আসব; আজ বিকেলের রোদে হাঁটব কিছুক্ষণ।

1 2 3 27

এখানে তন্ময় সাহা এর 268 টি কবিতা পাবেন

error: Content is protected !!