আটাশ পা

সকল কবিতা By 6 months ago No Comments
0
(0)

সাত আসমান হাঁটি চার পায়
তবু মেলে না মজুরি ‘আটাশ পা’,
আমার হাল বাওয়া– জোদ্দারের ধান,
আর এক পা গেলেই মিলবে মোহর!
একদিন অন্ধ ষাঁড় তাকায়,
হিসাবের খেরোখাতায় হালখাতার হয় প্রয়োজন।
আটাশ পায়ের পদধূলি,
গোধূলি এলেই হবে, সমাপন।

দু’মুঠো ঘাসের জন্য বিরান মাঠ বলেছিলো,
“খুঁজে নাও, তোমার জমানো খড়।” বলেছিলো মনিব,
“জমা আছে হকের আমানত, জমা আছে সম্পদ।”
চাই গোধূলির সমস্ত ধুলোর হিসাব,
ফোলা পেটে আছে খিদের হুংকার।
মনিব, আজ আমার তিলে তিলে জমানো আটাশটি পা, কই…?
মানুষ মানুষের মনিব হয় না,
তবু কিছু কিছু মানুষ রাক্ষস হলে,
রাক্ষসের কেউ কেউ মনিব বনে যায়,
বলদই নয় মানুষও ছিঁড়ে খায়। কেন?

শীত কি গ্রীষ্ম নাই, রোদ কি বাদল নাই, তোমার জমিনে দিছি চাষ।
তোমার ফসল তোমার গাড়ি, কান্ধে আমার কেবল জোয়াল!
মাড়াই ফসল পক্ষীত খায়, খালি আমার মুখে দিছো ঠুলি,
ঠুলি আঁটা চোখ দেখে হাজারগুণ,
ফসলের গন্ধ যায় কব্বরেরও তলায়।

ঠাঁয় দাঁড়ায়ে রাজ্যের রোদ মাথায়, জোটেনি মাথাল
বর্ষায় গোহালে ভিজেছে কাক,
কেউ এসে মোছেনি গো আঁষাঢ়ের ষাঁড়।
কাঁচা ঘাস দান বিধাতার,
বোধ হয় সে ছাড়া আপন নেই কেউ আর।

আমার আপন লেজে কীট ও পতঙ্গের প্রতি প্রতিশোধ নেবো–

কেটেছো কাঁচির কোপে কিচ্ছু বলিনি।
আমিতো বেসেছি ভালো ‘আমার মনিব’,
কাঁধের জোয়াল ভেবেছি আশীর্বাদ।
তয় ক্যান আমার জাবনায় পড়ে টান,
তয় আমার জাবনার খর ক্যান তোমার চালায়?
কোন দেশে আছে বর্গি এমন?
আর কতকাল আমার অন্নে পালিত হবে
আমারই রক্তচোষা?

অতঃপর অসহযোগ, ক্ষেতে হাল দেয়া বন্ধ,
ফসলের গাড়ি টানবো না,
চলবে না শুকনো-ধান নাড়া, মাড়াই হবে না ধান,
এ আমার চূড়ান্ত অসহযোগ।
ছেড়ে দিয়ে দানা পানি, অনশন আমার প্রতিবাদ,
অনশন আমরণ অনশন।
চার হাটু গেড়ে বসে থাকবো ঠাঁ ঠাঁ রোদে,
এ আমার অবস্থান ধর্মঘট।
মাঝে মাঝে শ্লোগানও তুলি
ভিক্ষা কে চায় মনিব ন্যায্য পাওনা দ্যাও…
আমার মিছিলে দিলো নাতো যোগ কাঙ্খিত বলদেরা।

আমার অসহযোগ আছড়ে পড়ে
আমারই পিঠে, পুরস্কার আর ন্যায্য হিসাব
নাঙলা নড়ির বাড়িতে গোনে মালিক।
“পাজি বলদ, তোকে আজ এমন শিক্ষা দেবো,
দুষ্টু বলদের চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো” শুনলাম কানে।

এক ঢুঁশে উড়াব কলিজা,
তেড়ে যাই জোরে, না-খাওয়া গতরে পাই না বল,
দালাল আসে কেনাবেচা হয়,
“আমারে কেজি পাঁচেক দিয়ো মিয়া”

এইবার নেবো প্রতিশোধ, হাঁড়ের টুকরায় ভাঙবো দাঁত…
আফসোস ন্যায়-অন্যায় বলদেও বোঝে, বোঝে না মানুষ।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

Author

তন্ময় সাহা(১৯৮৩)–জন্ম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত কুষ্টিয়া জেলায়, কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা, শৈশব কেটেছে, কৈশোরেও তার কুষ্টিয়া আর গড়াই নদীর মাখামাখি। তারপর লেখাপড়া ও কর্মসূত্রে বহুদিন ধরে খুলনায় বসবাস। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি এন্ড জিনেটিক ইন্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক, বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ এমবিএ (এইচ আর এম) সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘দি ফ্লেচার স্কুল অফ ল’ এন্ড ডিপ্লোম্যাসি; টাফ্ট ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ডিজিটাল ফিন্যান্স প্যাকটিশনার হিসাবে সনদপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি উপপরিচালক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনায় কর্মরত আছেন। লেখালিখি চলেছে বিক্ষিপ্তভাবে, শখে, আদিষ্ট বা অনুরুদ্ধ হলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যুক্ত ছিলেন নাট্যদল ‘থিয়েটার নিপূণ’ এবং বিজ্ঞান পত্রিকা ‘বায়োটকের’ সাথে। বই, বাংলা সাহিত্য হলো তার ভালোবাসা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া প্রতিযোগীতায় স্কুল পর্যায়ে পাওয়া সার্টিফিকেট আর উপহারে পাওয়া বইগুলোকে আজও অতি যত্নে রেখেছেন, নিজস্ব বুকসেলফে। মুলতঃ কবিতা লেখার শখ, টুকটাক গদ্য লেখারও চেষ্টা চলে। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতাগুলি সহ সোস্যালমিডিয়া, টুকরো কাগজ আর ডাইরিগুলোর পাতা থেকে অদুর অতীতে লেখা নিজের পছন্দের বেশ কিছু কবিতা মলাটবন্দী করে, আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন হোরাসের চোখ, বিবিধ ঘোড়সওয়ার ও কালো মেম কাব্যগ্রন্থে।

No Comments

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!