আসুন কাদা ঘাঁটুন

সকল কবিতা By 2 months ago No Comments
5
(1)

পুকুর সেঁচে আমোদের মাছ-ধরা হলে
মাখোমাখো অনেক মানুষ একসাথে কাদায় নামেন।
বেড়াজালে বেড়া দেয়া হয়; মাঝে তার লক্ষ মাছের
লম্ফ এখানে থামে।
থামে মাছ ও মানুষ।
পোকার মতন কিলবিলে মাছেদের ঝাঁক, কাদার খলবল,
মানুষের কোলাহল, কোলাহল ডানে-বামে-

আধুনিক কাদা সেঁচা মেশিনের ঘর: রাতভর
যন্ত্রণা-সেঁচা কাদা জমে যায়- সব মাছ ধরা হয় না।
সব মাছ ধরে না মিছিল।
কিছু মাছ হাড়িতেও রাখে;
কিছু মাছ রেখে যায় পুরোনো কাদায়।

কখনই বিষ দিতে নেই।
নতুন পোনায়, নতুন বৃষ্টিতে নগর আবাসী হবে পুনরায়।

আসুন- গামছা, প্যান্ট, ধুতি, লুঙ্গি বা পাজামা পরে-
যার যার মতে ঘোলা জলে মৎস শিকারে নামি!
বৈদেশে কাদা আর কাদা-মাখামাখি পয়সায় কেনে।

কাদা জলে নামবেন বলে আগ্রহী মেম প্রয়োজন।
আসুন- দলে দলে-
কাদা মাখুন, কাদা মেখে ডলার দিন!

মহান ফটোগ্রাফার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে
এরকম দুর্লভ দৃশ্য এঁকে এনেছেন কালো ক্যামেরায়।
সকলের সমক্ষে তাকেও কি চোবানো হবে
নাগরিক কাদায়?

ভোট হলো টোট হলো নাগরিক জোট হলো;
ভালোবেসে তবু কেউ একটি মাছও দিলোনা তাকে!
এই নিয়ে তেমাথার বুড়ো বট- দুঃখে আছেন বড়?
মাছের জন্য কাদা, কুলীনের ভরদুপুর,
বোধের জন্য রোদ্রস্নান: এসকল সকলের জোটে না।

অপেক্ষায় বুড়ো বট-তিনি আর কত বুড়ো হবেন?
কত আর সরু হবে প্রসস্ত বুক? এ জগতে
আদিকাল হতে কেজো কুলীন বরাবর দাঁড়কাক হন…
কৌশলে পোঁতা হয় কলির কাদায়।

এরকম কুলীনের বাড়ে না বয়স। বড়জোর একদিন-
হয় সে ঘাটের মড়া।
শত কুলীন গঙ্গা পেলেও, যেসব কুলীন অনায়াসে
নাপিত হতে জানেন তারাও কুলীন নন!
জাত রাখা হবে না তাদের।
এরকম জাত তারা চান না। নিজগুণে শিশু মাছেদের,
গাছেদের দয়া করে বলে দিন,
‘কোন গুণে লেখা হয় কোন ইতিহাস!’

মরার এ ঘাটে যার যার হলো না আগাড়
তার তার কিবা রাজঘাট কিইবা ভাগার!

একবার সকলেই আসুন,
ঘাঁটুন কলির কাদা- দেখে যান মরার এ ঘাটে নবীন,
তরুণ, যুবক, মাঝ বয়েসী, প্রাজ্ঞ কালবাউশ সকলেই
কীভাবে কুঁজো হয়ে আছে।
কীভাবে ন-আনা বিকায় সস্তায়…
আয়নায় দেখে যান; শিখে যান একবার এসে।

Download PDF

বিজ্ঞাপন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

Author

তন্ময় সাহা(১৯৮৩)–জন্ম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত কুষ্টিয়া জেলায়, কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা, শৈশব কেটেছে, কৈশোরেও তার কুষ্টিয়া আর গড়াই নদীর মাখামাখি। তারপর লেখাপড়া ও কর্মসূত্রে বহুদিন ধরে খুলনায় বসবাস। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি এন্ড জিনেটিক ইন্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক, বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ এমবিএ (এইচ আর এম) সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘দি ফ্লেচার স্কুল অফ ল’ এন্ড ডিপ্লোম্যাসি; টাফ্ট ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ডিজিটাল ফিন্যান্স প্যাকটিশনার হিসাবে সনদপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি উপপরিচালক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনায় কর্মরত আছেন। লেখালিখি চলেছে বিক্ষিপ্তভাবে, শখে, আদিষ্ট বা অনুরুদ্ধ হলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যুক্ত ছিলেন নাট্যদল ‘থিয়েটার নিপূণ’ এবং বিজ্ঞান পত্রিকা ‘বায়োটকের’ সাথে। বই, বাংলা সাহিত্য হলো তার ভালোবাসা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া প্রতিযোগীতায় স্কুল পর্যায়ে পাওয়া সার্টিফিকেট আর উপহারে পাওয়া বইগুলোকে আজও অতি যত্নে রেখেছেন, নিজস্ব বুকসেলফে। মুলতঃ কবিতা লেখার শখ, টুকটাক গদ্য লেখারও চেষ্টা চলে। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতাগুলি সহ সোস্যালমিডিয়া, টুকরো কাগজ আর ডাইরিগুলোর পাতা থেকে অদুর অতীতে লেখা নিজের পছন্দের বেশ কিছু কবিতা মলাটবন্দী করে, আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন হোরাসের চোখ, বিবিধ ঘোড়সওয়ার ও কালো মেম কাব্যগ্রন্থে।

No Comments

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!