পলাতক আলো

সকল কবিতা By 6 months ago No Comments
0
(0)

“ওই দেখো, আলো, ঝিলিক দিয়ে যাচ্ছে থেকে থেকে।
ওরই কাছে যাবো, জানোতো
অন্ধকার বিলাসীর থেকে ক্রমশই দূরে সরে আলো,
চলো।”

“কতোদূর আর কতোদূর?”

“দু’কদমওতো হয়নি হাঁটা,
একটু একটু করে পেরোবো পথ,
একটু একটু করে কাটবে সময়,
আর আমাদের কাছে আলো হবে সন্নিকট,
প্রেয়সী ঠিক তোমার মতোন।”

“যাহ্ দুষ্টু,
শীত লাগছে আমাকে একটা চাদর দিতে পারো?”

“শীতার্ত মানুষ চাদর চাইবে জানি, কিন্তু
কী লাভ অযথা আড়াল রেখে?
যদি তোমার আমার হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যায় উত্তাপ,
তবে, পলাতক শীতকে আর খুজে পাবে না তুমি।”

“কিন্তু?”

“কোনো কিন্তু নেই, সূর্যের আলো যেমন পৌঁছে যায়
উত্তাপ সাথে করে,
সকাল যেমন এসে ঘুম ভাঙায়,
আলো, আমাদেরও ভাঙাবে কালঘুম উত্তাপ দেবে।

চাদর মুড়ি দেয়া শীত,
আমাদের অলস করে ঘুম পাড়াবে না আর।
আমাদের বাঁচতে শেখাবে সূর্যোদয়।
চল সূর্যটা যেনো আর দূরে না সরে।
যেনো অবোধ ভ্রুণের মতো আর ফিরে যেতে না হয়,
মাতৃগর্ভে।
যে আলো আসছে তাকে উৎসমূল থেকে খুজে নিয়ে,
তার কাছ থেকে উত্তাপ এনে,
তোমায় দেবো প্রিয়ে, কেমন?”

“আচ্ছা, এ্যই শোনো….”.

কি?

“আমার না পা জড়িয়ে আসছে…
অসংখ্যবার বুজে বুজে আসছে দু’চোখ।
এই কালরাত্রির মতোন অন্ধকার পাহাড়ি বন্ধুর পথে
হোঁচট খাচ্ছি বারবার।
পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে ফিনকি দিয়ে।
মনে হচ্ছে যেনো মরেই যাবো,
ওগো ওতদূর কি না গেলেই নয়?”

“কাউকে না কাউকে তো যেতেই হয়,
তবে কেন আমরা যাবো না বলো?
হোঁচট খেতে খেতে পথ মসৃণ হবে,
চলতে চলতে ক্লান্তি কেটে যাবে,
ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি ততোক্ষণে শ্বশুরবাড়ি।

ক্লান্তিকে খেতে দিয়ো না।”
তাহলে, না খেতে পেয়ে
তোমার উপর রুষ্ট হয়ে ফিরে যাবে আপদ।”

“আর রক্ত?”

“অনাগত ভবিষ্যৎ আসবে আমাদের রক্তের দাগ ধরে।”

“এই পথে গেছে কেউ,
এ পথেও কেউ যায়?”

“রক্তের জমাট দাগ কাফনের মতো সাদা পথে
বিপ্লব এনে দেবে।
না কোনো সন্ত্রাস, না কোনো শোষণ,
না কোনো যুদ্ধ, না কোনো অপমান।
দেখে নিয়ো,
ভালোবাসার দুয়ার খুলে দেবে আমাদের রক্ত।
পা ফেটে রক্ত বেরোক,
চলতে চলতে রক্তবিন্দু ঝরুক,
তবু আমরা বুক চিরে লিখবো একটিই নাম, বিজয়।
বিজয় আলোকবর্তিকা।”

বলবো, “এই দেখ এসেছি আমরা,
আমরা এসেছি,
তোমরাও এসো,
আমাদের জমাট রক্তের দাগ ধরে,
এই শেষ রক্তবিন্দুতে দাঁড়িয়ে গাও,
আমরা থামবো না,
আমরা পরাজিত হতে আসিনি।

আলো, তোমাকে মুঠোয় পুরে নেবো পকেটে।
সার্চলাইটের মতোন ব্যবহার করবো,
প্রতিটি সত্যের সন্ধানে।
আমাদের পরাজয় নেই।
আমাদের হতাশা নেই।
আমাদের ক্লান্তি নেই।
আমাদের থেমে যাওয়া নেই।
আমরা চলতে জানি,
আমরা আশায় ঘর বাঁধি।
আমরা জিতবোই।
অতিদূর থেকে ছিনিয়ে আনবো “পলাতক আলো।”

আরও পড়ুন – >>> শান্ত থাকিস ক্ষণস্থায়ী জলে

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

Author

তন্ময় সাহা(১৯৮৩)–জন্ম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত কুষ্টিয়া জেলায়, কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা, শৈশব কেটেছে, কৈশোরেও তার কুষ্টিয়া আর গড়াই নদীর মাখামাখি। তারপর লেখাপড়া ও কর্মসূত্রে বহুদিন ধরে খুলনায় বসবাস। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি এন্ড জিনেটিক ইন্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক, বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ এমবিএ (এইচ আর এম) সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘দি ফ্লেচার স্কুল অফ ল’ এন্ড ডিপ্লোম্যাসি; টাফ্ট ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ডিজিটাল ফিন্যান্স প্যাকটিশনার হিসাবে সনদপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি উপপরিচালক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনায় কর্মরত আছেন। লেখালিখি চলেছে বিক্ষিপ্তভাবে, শখে, আদিষ্ট বা অনুরুদ্ধ হলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যুক্ত ছিলেন নাট্যদল ‘থিয়েটার নিপূণ’ এবং বিজ্ঞান পত্রিকা ‘বায়োটকের’ সাথে। বই, বাংলা সাহিত্য হলো তার ভালোবাসা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া প্রতিযোগীতায় স্কুল পর্যায়ে পাওয়া সার্টিফিকেট আর উপহারে পাওয়া বইগুলোকে আজও অতি যত্নে রেখেছেন, নিজস্ব বুকসেলফে। মুলতঃ কবিতা লেখার শখ, টুকটাক গদ্য লেখারও চেষ্টা চলে। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতাগুলি সহ সোস্যালমিডিয়া, টুকরো কাগজ আর ডাইরিগুলোর পাতা থেকে অদুর অতীতে লেখা নিজের পছন্দের বেশ কিছু কবিতা মলাটবন্দী করে, আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন হোরাসের চোখ, বিবিধ ঘোড়সওয়ার ও কালো মেম কাব্যগ্রন্থে।

No Comments

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!