হৃদয়ের ফটোস্ট্যাট

সকল কবিতা By 6 months ago No Comments
0
(0)

উঁচু তলায় চোখ রেখে খঁজেছি উত্তরের ডাস্টবিনে,
বড় বড় দালানের ছাদে, কখনো কি দখিনা বাতাস অথবা কাক
এনে ফেলেছিলো দুর্মূল্য সম্পদ ?
পশ্চিমের আস্তাকুড়ে সেই পরিচিত লাশ রাখা আছে।
রক্তাক্ত হৃদয়টা তার উড়ে গেছে ঝড়ে।
মেঘে মেঘে অনেক হলো বেলা, এখন দুর্গন্ধময়
লাশটার পোস্টমর্টেম হতে হবে, হতে হবে তল্লাশ।

মানুষটা প্রেমিক ছিলো হৃদয়ের শূণ্যস্থানে
অতি স্পষ্ট হৃদয়ের দাগ আছে,
অদ্ভুতভাবে চেয়ে আছে মৃত লাশ, চোখ নয়
শতকোটি টর্চলাইটের আলো যেন জ্বলে, শরীর নয়
নড়ে ওঠে পৃথিবীও।
মূকও মুখর হয়ে বলে যায় গোপন খবর।

লাশ কি কথা বলে ? কী এমন কথা বলে লাশ?
এ লাশ বরং একটু অন্যরকম।
কেমন এর চুপচাপ দুখু মিঞা ভাব।

রক্ত সঞ্চালনে অদ্ভুত শব্দ ছিলো মরার আগেও,
মহামান্য জনতা সে শব্দ শুনেছেন,
কখনো হেলেন কখনো লাইলী,
কখনো শিরিনের বিপরীতে
কখনো এমন শব্দ কি ছিলো প্রেমিকের স্পন্দনে?

এমন কি হতে পারে না, লাশ নয় এ শুধু নিথর দেহ।
পারো যদি একটি হৃদয় এনে দিতে
কেউ যদি ধার দেয় প্রেমে হৃদয়ের একটি ফটোস্ট্যাট:
বাঁচবে প্রেমিক, নতুবা ফসিল হবে।

দেখেছো কি একটি পত্র ফলক
যেখানে বিজ্ঞাপনে বলা আছে “আসুন, হৃদয় অথবা
দান করুন হৃদয়ের একটি ফটোস্ট্যাট।”
সমসাময়িক প্রেমে আজ নিথর প্রেমিক
প্রেমকে বাঁচাবো বলে, খুঁজে ফিরি দশদিক।

আরও পড়ুন – >>> অবশেষে মাছের চোখে…

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

Author

তন্ময় সাহা(১৯৮৩)–জন্ম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত কুষ্টিয়া জেলায়, কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা, শৈশব কেটেছে, কৈশোরেও তার কুষ্টিয়া আর গড়াই নদীর মাখামাখি। তারপর লেখাপড়া ও কর্মসূত্রে বহুদিন ধরে খুলনায় বসবাস। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি এন্ড জিনেটিক ইন্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক, বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ এমবিএ (এইচ আর এম) সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘দি ফ্লেচার স্কুল অফ ল’ এন্ড ডিপ্লোম্যাসি; টাফ্ট ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ডিজিটাল ফিন্যান্স প্যাকটিশনার হিসাবে সনদপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি উপপরিচালক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনায় কর্মরত আছেন। লেখালিখি চলেছে বিক্ষিপ্তভাবে, শখে, আদিষ্ট বা অনুরুদ্ধ হলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যুক্ত ছিলেন নাট্যদল ‘থিয়েটার নিপূণ’ এবং বিজ্ঞান পত্রিকা ‘বায়োটকের’ সাথে। বই, বাংলা সাহিত্য হলো তার ভালোবাসা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া প্রতিযোগীতায় স্কুল পর্যায়ে পাওয়া সার্টিফিকেট আর উপহারে পাওয়া বইগুলোকে আজও অতি যত্নে রেখেছেন, নিজস্ব বুকসেলফে। মুলতঃ কবিতা লেখার শখ, টুকটাক গদ্য লেখারও চেষ্টা চলে। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতাগুলি সহ সোস্যালমিডিয়া, টুকরো কাগজ আর ডাইরিগুলোর পাতা থেকে অদুর অতীতে লেখা নিজের পছন্দের বেশ কিছু কবিতা মলাটবন্দী করে, আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন হোরাসের চোখ, বিবিধ ঘোড়সওয়ার ও কালো মেম কাব্যগ্রন্থে।

No Comments

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!