হ্যালুসিনেশন

হোরাসের চোখ By 1 week ago No Comments
5
(3)

ইদানীং কখনো কখনো তীব্র হ্যালুসিনেশন হচ্ছে।

নদীর ঢেউের মতো উলঙ্গ রমনীর বুক-
ওসকল ওঠানামা দেখে ‘বন্ধ শ্বাসের কষ্টে হাঁপানির টান’ বলে
ভ্রম হলেও ‘আমি এক অন্য জগতে আছি’, এই-‘রূপ’
মানতেই হবে! যেন আমার মনে হচ্ছে,‘অটোসম বাদে জোড়া
যে ক্রমোজম (যাদের একটু অন্যরকম মিউটেশনে
পুরুষ, নারী, ট্রান্সজেন্ডার: সকলের ভাগ্যই
বিকল্প হতে পারে) সেখানে একটা অন্যরকম কোডিং ঢুকে
ক্রমাগত খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে
আমাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।’
তদুপরি, যে সকল অষ্টাদশীর জন্য দিনান্ত যুদ্ধ করেছি
আজ তারা তিরানব্বই এর থুত্থুরে বুড়ি হয়েও অচীন
বীভৎস গুনগুলো ঢুকিয়ে দিচ্ছে প্রজন্মের ক্রমোজমে!
সম্পূর্ণ রঙিণ সাতরঙা বায়োকেমিস্ট
কোন নাবালিকা প্রেমিকার শরীরকে একরকম জোড় করেই
তবুও একান্ত অনিচ্ছায় ছুঁয়ে আছে যেন! এবং
ছুঁয়ে আছে তার রিরংসাও..

এবং বাস্তবেও যেহেতু সেই রিরংসার রঙগুলোকে আমি
দেখতে পাচ্ছি, চিনতে পারছি, অতএব কখনোই আমি
বর্ণান্ধ ছিলাম না। তাহলে,
আমার বলা নামের সাথে পড়ুয়াদের নাম মিলছে না কেন?

এমনকি, একদা আমার বাড়ির সামনে যেসকল
দুর্দন্ড পাদপের মৃত্যুদন্ড হয়েছিল, তাদের কেউ কেউ
তৎক্ষনাৎ আমাদেরই চুলোয় গেছে
(বাকিরা যে কে কোন চুলোয় গেছে তা আমি জানি না)!
ওতে আমার কোন দোষ ছিল না। আমি
ভেবেছিলাম,“ ওরা-ও কারো না কারো ভাতের হাড়িতে
উত্তাপ দিলে, আমাদেরই বরং ভালো!’
সেই ওরাই এখন আমার হাড়-মাংসে উত্তাপের
হিসাব চাইছে!
কেন আমার খেরো খাতার অতিরিক্ত জাবেদার সাথে
পড়ুয়াদের ওই জাবেদা একদমই মিলছে না? কেন?

যেভাবেই হোক,
কালে-কালে যে সভ্যতা আমি জিতেছি বনপথের উপর
আগুন জ্বালিয়ে, কয়লা থেকে বিদ্যুৎ হয়ে উঠে, চাকায়
পিষ্ট হয়ে অথবা গড়গড়িয়ে
(প্রাণপ্রিয় সুরিয়ালিজমের পাখায় ভর করে)…
একদম অন্যরকম হয়ে সেই দূরন্ত সভ্যতার রুপে
ভনভন করছে কী-ই সব বিরক্তকর ড্রসফিলা মাছি। উফ্!
ইদানীং কখনো কখনো তীব্র হ্যালুসিনেশন হচ্ছে এবং
প্রচ- হ্যালুসিনেশন ছাড়া এসকল আর কীই বা হতে পারে?
‘ভুতে ধরা ডাইনির যাদুর জামানা’ সে কি আর আছে?
আছে নাকি?

Download PDF

বিজ্ঞাপন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 3

No votes so far! Be the first to rate this post.

Author

তন্ময় সাহা(১৯৮৩)–জন্ম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত কুষ্টিয়া জেলায়, কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা, শৈশব কেটেছে, কৈশোরেও তার কুষ্টিয়া আর গড়াই নদীর মাখামাখি। তারপর লেখাপড়া ও কর্মসূত্রে বহুদিন ধরে খুলনায় বসবাস। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি এন্ড জিনেটিক ইন্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক, বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ এমবিএ (এইচ আর এম) সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘দি ফ্লেচার স্কুল অফ ল’ এন্ড ডিপ্লোম্যাসি; টাফ্ট ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ডিজিটাল ফিন্যান্স প্যাকটিশনার হিসাবে সনদপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি উপপরিচালক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনায় কর্মরত আছেন। লেখালিখি চলেছে বিক্ষিপ্তভাবে, শখে, আদিষ্ট বা অনুরুদ্ধ হলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যুক্ত ছিলেন নাট্যদল ‘থিয়েটার নিপূণ’ এবং বিজ্ঞান পত্রিকা ‘বায়োটকের’ সাথে। বই, বাংলা সাহিত্য হলো তার ভালোবাসা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া প্রতিযোগীতায় স্কুল পর্যায়ে পাওয়া সার্টিফিকেট আর উপহারে পাওয়া বইগুলোকে আজও অতি যত্নে রেখেছেন, নিজস্ব বুকসেলফে। মুলতঃ কবিতা লেখার শখ, টুকটাক গদ্য লেখারও চেষ্টা চলে। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতাগুলি সহ সোস্যালমিডিয়া, টুকরো কাগজ আর ডাইরিগুলোর পাতা থেকে অদুর অতীতে লেখা নিজের পছন্দের বেশ কিছু কবিতা মলাটবন্দী করে, আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন হোরাসের চোখ, বিবিধ ঘোড়সওয়ার ও কালো মেম কাব্যগ্রন্থে।

No Comments

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!